📍 কিশোরগঞ্জ | লোড হচ্ছে...

বিভাগ: সারাদেশ

মোট খবর: 7 টি
বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ

বাঞ্ছারামপুরে ৪২৬ নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় নতুন উদ্যোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দরিদ্র নারীদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। সোমবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর আধুনিক মিলনায়তনে আয়োজিত ৮৪তম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ৪২৬ জন নারীকে মোট ৮০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী উপকারভোগীদের হাতে ঋণের অর্থ তুলে দেন। বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন ২০০৫ সাল থেকে বাঞ্ছারামপুরে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফাউন্ডেশনের এই কার্যক্রম বাঞ্ছারামপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনা উপজেলাতেও বিস্তৃত হয়েছে। গত ২১ বছরে তিন উপজেলার ১০১টি গ্রামের প্রায় ৩১ হাজার দরিদ্র নারী এ ঋণ কার্যক্রমের আওতায় এসেছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। ঋণ পাওয়া নারীদের কয়েকজন জানান, তাঁরা হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন আয়মূলক কাজে ঋণের অর্থ ব্যবহার করছেন। এতে পরিবারের আয় বাড়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদেরও আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দুর্গারামপুর গ্রামের কুলসুম জানান, তিনি এর আগে তিনবার বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করেছেন। প্রতিবারই লাভ করেছেন। তবে মেয়ের বিয়ে ও ছেলের পড়াশোনার খরচে সেই অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। এবার চতুর্থবার ঋণ নিয়ে আবারও আয়মূলক কাজে বিনিয়োগ করতে চান তিনি। আসাদনগর গ্রামের পারভীন আক্তার বলেন, কয়েক বছর ধরে তিনি ফাউন্ডেশনটির কাছ থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিচ্ছেন। পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে তাঁর ঋণ নেওয়া শুরু হয়েছিল। এবার তিনি ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। কৃষিকাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করে তিনি পরিবারে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। পাড়াতলি গ্রামের মোমেনা আক্তার এবারসহ পাঁচবার ঋণ পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ঋণের অর্থ দিয়ে গরু-ছাগল পালন করে পরিবারের আয় বাড়াতে পেরেছেন। আসাদনগর গ্রামের হালিমা বলেন, তিনি ঋণের টাকা স্বামীর অটোরিকশার দোকানে বিনিয়োগ করেছেন। দোকানের লাভ থেকে ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়াচ্ছেন। এতে তাঁদের সংসারে আর্থিক স্বস্তি এসেছে। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান বলেন, উচ্চ সুদের ঋণ দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক সময় দারিদ্র্যের চক্র আরও জটিল করে তোলে। ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ কার্যক্রম দরিদ্র মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এই ঋণ ব্যবস্থা উপকারভোগীদের অর্থ আয়মূলক কাজে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়। ফলে তাঁরা তাৎক্ষণিক ঋণ পরিশোধের চাপ ছাড়াই ব্যবসা বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারেন। বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, সুদ ও সার্ভিস চার্জ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মাধ্যমে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন একটি মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এ কার্যক্রমের মাধ্যমে তিন উপজেলার প্রায় ৩১ হাজার নারী স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ঋণের অর্থ বৈধ ও আয়মূলক কাজে ব্যবহার করতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ঋণগ্রহীতাদের প্রতি আহ্বান জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণের পাশাপাশি বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগও এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। অনেক নারী প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রেও বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. চাঁনমিয়া সরকার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন, শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
মাদকের টাকায় বাড়ি-গাড়ি, টঙ্গীতে সক্রিয় একাধিক নারী

মাদকের টাকায় বাড়ি-গাড়ি, টঙ্গীতে সক্রিয় একাধিক নারী

রাজধানীর কাছাকাছি অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা—সব মিলিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। টঙ্গীর হাজীর মাজার, ব্যাংক মাঠ, কেরানীরটেক, এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন বস্তিতে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব এলাকায় ছোট-বড় মাদক কারবারিদের পাশাপাশি নারীদের একটি অংশও সক্রিয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির নেটওয়ার্ক। তাঁদের সহযোগী হিসেবে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় আরও অনেক নারী কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তির বাসিন্দা মোমেলা বেগমকে বড় মাদক কারবারিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গাঁজা দিয়ে শুরু করে পরে ফেনসিডিল, হেরোইন ও ইয়াবার কারবারে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মোমেলা বেগমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি, জমি ও যানবাহন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গত বছরের ২ নভেম্বর তাঁকে ইয়াবা ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। ব্যাংক মাঠ বস্তির আরেক আলোচিত নারী মাদক কারবারি ময়না খাতুন। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। ময়নার মেয়ে নার্গিস ও পুত্রবধূ রোজীর বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। ময়না খাতুনের ভাই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে। ময়নার ছেলে তাজুল ইসলাম তাজুর বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে গাজীপুর ও মাদারীপুরে সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তিতে ‘বড় আপা’ নামে পরিচিত আফরিনা আক্তারকেও স্থানীয়ভাবে বড় মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগে ফেনসিডিলের পাইকারি কারবার এবং বর্তমানে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে তাঁর স্বামী ও ভাই সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। কেরানীরটেক বস্তিতে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে কুলসুমের বিরুদ্ধে। একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকলেও মাদক কারবারের মাধ্যমে তাঁর সম্পদ বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। রেলওয়ের জায়গা দখল করে মাদক বিক্রির স্থান তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তাঁর বোন নার্গিসকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। একই এলাকার আরেক নারী কারবারি হিসেবে কারিমা বেগমের নামও উঠে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। গত ১৮ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের মাদক কারবারের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গীর বাইরে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর ও লক্ষ্মীপুরা এলাকাতেও নারী মাদক কারবারিদের তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকার ডালিয়া বেগমের জীবনযাত্রায় কয়েক বছরের ব্যবধানে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়রা জানান। আগে অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও বর্তমানে ওই এলাকায় তাঁর পরিবারের একাধিক বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুরা এলাকার তাহমিনা ও আশাকেও মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব নারী একা নন; তাঁদের ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আরও অনেক নারী ও পুরুষ কাজ করেন। কেউ মাদক সংগ্রহ, কেউ পরিবহন, আবার কেউ খুচরা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়াত হোসেন বলেন, মহানগরের বিভিন্ন বস্তিতে মাদক কারবার বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। গত আট মাসে এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং অনেক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কয়েকটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। টঙ্গীকে মাদকমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বস্তিতে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলেও স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকের সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি কারবারের অর্থের উৎস, পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
বান্দরবানে ৪০ অসচ্ছল নারী পেলেন প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন

বান্দরবানে ৪০ অসচ্ছল নারী পেলেন প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন

সবুজ পাহাড় আর আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে বান্দরবানের প্রত্যন্ত জনপদে বসবাস করা মানুষের জীবন সহজ নয়। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, সীমিত কর্মসংস্থান এবং কৃষিনির্ভর জীবিকার কারণে অনেক পরিবারকে প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস জুম চাষ। কিন্তু প্রকৃতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এই আয়ে সারা বছর সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন। এই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পরিবারের নারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর। সংসারের সীমিত আয় দিয়ে খাবার, চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকেরই নিজের জন্য আলাদা কোনো আয়ের সুযোগ থাকে না। অথচ তাঁদের অনেকেরই রয়েছে কাজ শেখার আগ্রহ এবং নিজের আয় দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করার স্বপ্ন। এমন কিছু স্বপ্নবাজ নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে বান্দরবানের আলীকদম ও সদর উপজেলার ৪০ জন অসচ্ছল নারীকে তিন মাসব্যাপী বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে সেলাই মেশিন। ফলে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের জন্য দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আলীকদম ও বান্দরবান সদর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহেদ পারভেজ, বান্দরবান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক বাচ্চু, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে চান চামমুম আলীকদম উপজেলার মারানপাড়ার চামমুম ম্রোর জীবন কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। তিন ভাই ও আট বোনের বড় পরিবারের এই তরুণী বর্তমানে আলীকদম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা রেংকাই ম্রো জুম চাষ করেন। তাঁর আয় দিয়েই পরিবারের এত সদস্যের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হয়। বড় পরিবারের কারণে ছোটবেলা থেকেই অভাবের বাস্তবতা দেখেছে চামমুম। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় নিজের প্রয়োজনের খরচ মেটানোর জন্যও তাকে পরিবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে একটি কাজ শেখার সুযোগ খুঁজছিল চামমুম। সেলাই প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিনও পেয়েছে সে। চামমুমের ভাষায়, পরিবারের সদস্য অনেক। বাবার জুম চাষের আয় দিয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন। সেলাই শেখার সুযোগ পেয়ে সে খুশি। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই করে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করতে চায়। তার কাছে সেলাই মেশিনটি কেবল একটি যন্ত্র নয়; নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সুযোগ। বাবার অসুস্থতার মধ্যেও থামেনি লাইজুর পড়াশোনা আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের লাইজু আক্তারের জীবনেও অভাব ও দায়িত্বের চাপ কম নয়। লামা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী ছয় বোনের একজন। প্রায় ১৩ বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে লাইজুর বাবা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। বাবার নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের বড় বোনদেরই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। বড় বোনদের সহযোগিতায় লাইজুর পড়াশোনা চলছে। তবে নিজের সব প্রয়োজনের জন্য পরিবারের দিকে তাকিয়ে থাকতে চায় না সে। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের কিছু খরচ চালায়। এর মধ্যেই সেলাই শেখার সুযোগ পায় লাইজু। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিনও পেয়েছে সে। এখন টিউশনের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার পরিকল্পনা করছে। লাইজু মনে করে, বাবার অসুস্থতার কারণে পরিবারের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, নিজের আয় দিয়ে তার কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন তার। মাসিংচিংয়ের স্বপ্ন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বান্দরবান সদর উপজেলার রেনীং পাড়ার মাসিংচিং মার্মাও সেলাই মেশিন পাওয়া ৪০ নারীর একজন। লোটাস শিশু সদন আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাবা থোয়াইচিংনু মার্মা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে কর্মরত। দুই বোনের পরিবারে সীমিত আয়ের মধ্যেই তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একটি দক্ষতা অর্জনের ইচ্ছা ছিল মাসিংচিংয়ের। সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন নিজের একটি মেশিনও রয়েছে তার হাতে। এই মেশিন ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আয় করতে চায় সে। নিজের পড়াশোনার খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে মাসিংচিং। মায়ের অনুপস্থিতিতে মেসাইনুর লড়াই বান্দরবান সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেসাইনু মার্মার জীবনেও রয়েছে সংগ্রামের গল্প। তাঁর মা অনেক আগেই মারা গেছেন। বাবা সাবাই উ মার্মা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। বাবার সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই মেসাইনুর পড়াশোনা চলছে। পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা তাঁকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কাজ শেখার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পাওয়ায় এখন সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই করে আয় করে বাবার আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে চান মেসাইনু। শ্যামলীর পরিবারেও স্বচ্ছলতার অপেক্ষা এই উদ্যোগের আরেক উপকারভোগী শ্যামলী তঞ্চঙ্গ্যা বান্দরবান সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা কদম তঞ্চঙ্গ্যা খুব বেশি আয় করতে পারেন না। পরিবারের ব্যয় মেটাতে এনজিওতে কর্মরত ভাইয়ের আয়ের ওপরও নির্ভর করতে হয় তাঁদের। এই বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন শ্যামলী। ভবিষ্যতে নিজের আয়ে পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর। সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন পাওয়ার পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারলে পরিবারে আর্থিকভাবে অবদান রাখা সম্ভব হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর। প্রশিক্ষণের সঙ্গে মেশিন, তাই তৈরি হলো কাজের সুযোগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সেলাই মেশিন বিতরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। এ কারণে মেশিন দেওয়ার আগে নারীদের তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা সেলাইয়ের মৌলিক কাজ শেখার পাশাপাশি মেশিন ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন। আয়োজকদের মতে, সীমিত আয়ের পরিবার, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সংসারের নানা দায়িত্বের কারণে অনেক নারী আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। তাঁদের একটি ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানোর পাশাপাশি সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর উপকরণ দেওয়া হলে নিজেদের আয়ের পথ তৈরি করা সহজ হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেওয়ার উদ্যোগ সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন। বান্দরবান সদর থানার ওসি মো. শাহেদ পারভেজও উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দেওয়া তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে সহায়তা করবে। বান্দরবান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক বাচ্চু বলেন, শুধু মেশিন বিতরণ নয়, তার আগে তিন মাসের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ দেওয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ। এতে উপকারভোগীরা মেশিন ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করেছেন। ফলে সেলাই মেশিন তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম হতে পারে। বসুন্ধরা শুভসংঘ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক নারী নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের সুযোগ পান না। তাঁদের দক্ষ করে তুলতে পারলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একটি মেশিন, একটি পরিবারের নতুন সম্ভাবনা সেলাই মেশিন পাওয়া ৪০ নারীর বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। তাঁদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছেন। কারও বাবা জুম চাষ করেন, কারও বাবা কৃষিকাজ করেন, আবার কারও পরিবারে অসুস্থতা বা সীমিত আয়ের কারণে সংসার চালানোই কঠিন। তাঁদের প্রত্যেকের গল্প আলাদা হলেও স্বপ্ন প্রায় একই—পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিজের প্রয়োজনের কিছুটা নিজে মেটানো এবং সুযোগ পেলে পরিবারকে সহযোগিতা করা। সেলাই মেশিন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো সীমিত। এমন উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নয়, নারীদের মধ্যে আত্মনির্ভরতার মানসিকতাও আরও শক্তিশালী হবে। চামমুম, লাইজু, মাসিংচিং, মেসাইনু কিংবা শ্যামলী—প্রত্যেকের হাতে এখন একটি করে সেলাই মেশিন। তাঁদের কাছে এটি কেবল একটি উপহার নয়। কারও কাছে এটি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অবলম্বন, কারও কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ, আবার কারও কাছে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম পুঁজি। পাহাড়ের কঠিন বাস্তবতার মধ্যে তাই এই ৪০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন পৌঁছে দেওয়া যেন নতুন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা কতটা এগিয়ে যেতে পারবেন, তা সময়ই বলবে। তবে শুরুটা হয়েছে—নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে।

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
নদী ভাঙনে কষ্টে থাকা মানুষের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন

নদী ভাঙনে কষ্টে থাকা মানুষের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় ৩ শতাধিক মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। বুধবার বিকেলে চকহরিচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার নদীভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার চকহরিচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ২৫ কেজি করে চাল তুলে দেওয়া হয়। খাদ্য সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের সহধর্মিণী শায়লা কবীর। খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ ইকবাল রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুস সালাম এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি লোকমান হোসেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শায়লা কবীর বলেন, অসহায় মানুষের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবিজি ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা শুধু মানিকগঞ্জে সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায়ও এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
মেঘনা নদী গিলে খাচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

মেঘনা নদী গিলে খাচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। প্রায় দুই বছর ধরে সরেজমিন তদন্ত শেষে ১২ সদস্যের কমিটি একটি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেঘনা গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান নদীর প্রায় ২৪১ দশমিক ২৭ একর জমি দখল করেছে। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ৭৭ একর জমিতে বিভিন্ন স্থাপনা ও মূল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৫ দশমিক ৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে সড়ক। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দখল করা নদীর জমি দ্রুত উদ্ধার করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আলাউদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসন নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেবে। তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের অক্টোবরে কাজ শুরু করে। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তদন্ত কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর আবার তদন্ত শুরু করা হয়। কমিটির সদস্যরা সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যের বাজার, হোসেনপুর ও পিরোজপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চর রমজান, সোনাউল্লাহ, পূর্ব দামোদরদী, পশ্চিম দামোদরদী, দুধঘাটা, টেঙ্গরচর, ছয়হিস্যা, নরসুলদী, আষাঢ়িয়ারচর ও ঝাউচর এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস, সুগার রিফাইনারি, ফ্রেশ সুগার, কেমিক্যাল কারখানা, ফ্রেশ সিমেন্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করে। এসব স্থাপনার কয়েকটি নদীর মূল ভূমি, তীরবর্তী এলাকা ও প্লাবনভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা নদীর শাখা মারাখালী নদীর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের তীর থেকে নদীর ভেতরে প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত দখলের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় নদীর জমি ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর, স্থাপনা ও জেটি নির্মাণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নদীর জমি ভরাটের কারণে মেঘনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নদী ও আশপাশের জলাভূমির পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নিম্নাঞ্চলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তদন্ত প্রতিবেদনে ভূমি রেকর্ডের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ভূমি অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ডে মেঘনা গ্রুপের দখলে থাকা অনেক জমিকে নদীর জমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আরএস রেকর্ডে কিছু জমি খাস হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার পর তা অন্যের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের নির্ধারিত অংশের অর্থ পরিশোধের বিধান রয়েছে। কিছু জমির ক্ষেত্রে এ বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে তদন্ত কমিটি। মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জেটি রয়েছে এবং এসবের জন্য বিআইডব্লিউটিএর অনুমতির বিষয়ও তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে। তবে নদীর জমিতে স্থাপিত দুটি জেটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে বিআইডব্লিউটিএর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ছাড়া মেঘনা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। নদীর জমি বা প্লাবনভূমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সেখান থেকে তরল বর্জ্য নদীতে পড়লে তা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। নদীর জমি উদ্ধার ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি ১২টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে দ্রুত নদীর জমি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদী রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয় রয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মেঘনা নদী দখল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে নদীর দখলমুক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে সভা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সোনারগাঁ উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইতিমধ্যে মদিনা গ্রুপের দখলে থাকা নদী ও নদীতীরবর্তী সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলের বিষয়ও তালিকাভুক্ত করে নদীর জমি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

৩১ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
রংপুরে ৪ খুন: ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের শরীরে

রংপুরে ৪ খুন: ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের শরীরে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর ফলে চার খুনের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন—পুলিশের তদন্তে উঠে আসা সেই দাবিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল। আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারেই নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ডোপ টেস্টের জন্য টেকনোলজিস্ট পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানায় ডিবি। অনুমতি পাওয়ার পর রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে যায় ডিবির দল। রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, ‘ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ইউরিন স্পেসিমেন বা প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নমুনাগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে তাদের মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মাদক সেবনের প্রমাণ মেলেনি।’ গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা, ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় এবং বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। পুলিশ আরও দাবি করে, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুই সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখন ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ আসায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিদের মাদক সেবনের দাবি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডোপ টেস্টের ফলাফল দিয়ে পুরো হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলের আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক তথ্যও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হবে। চার খুনের মতো চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশের বক্তব্য ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে এই পার্থক্য তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে এখন নজর রয়েছে। সূত্র- ইনডিপেন্ডেট টিভি অনলাইন।

৩১ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →
পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড়, কারাগারে সেই নয়ন

পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড়, কারাগারে সেই নয়ন

মাগুরা শহরে এক পুলিশ কনস্টেবলকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৮ আগস্ট বিকেলে শহীদ স্মৃতি চত্বর এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে একটি ওয়ার্কশপে যাওয়ার সময় কনস্টেবল মো. ইমরান হোসাইনের সঙ্গে কয়েকজনের বাগবিতণ্ডা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সদর হাসপাতালের সামনে তার পথরোধ করে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত কনস্টেবল ইমরান হোসাইন সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৮৬, ৩৪১, ৩৩২, ৩৫৩ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে বসে থাকা পুলিশ সদস্যকে নাইমুজ্জামান নয়ন চড় মারছেন। অন্য একটি ভিডিওতে তাকে পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নিতে এবং আশপাশের লোকজনকে ঘটনাস্থলে আসতে বলতে দেখা যায়। সেখানে থাকা পুলিশের দুই সহকারী উপপরিদর্শক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সড়কে যান চলাচল নিয়ে বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। মাইক্রোবাসকে সাইড না দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগের বিষয়ে নাইমুজ্জামান নয়ন বলেন, যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় ওই পুলিশ সদস্যকে সাইড দিতে বারবার হর্ন দিয়েও সাড়া না পেয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তাকে একটি থাপ্পড় দেন এবং এটিকে নিজের ভুল বলে স্বীকার করেন। মায়ের অসুস্থতা ও মানসিক চাপের কারণেও তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলে দাবি করেন। ঘটনার পর নয়নকে থানায় নেওয়া হলেও তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। পরে মামলার তদন্তের একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র- আমার সংবাদ

৩০ আগস্ট, ২০২৬বিস্তারিত পড়ুন →