বিভাগ: জাতীয়
মোট খবর: 17 টি
মাদকমুক্ত সমাজের প্রত্যয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানো এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় তাঁরা এ কথা বলেন। ‘শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চাই আমাদের লক্ষ্য’ এবং ‘সংস্কৃতি একটি জাতির অতীত ও ভবিষ্যতের কথা বলে’—এই স্লোগান সামনে রেখে সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে ‘মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচা কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পরে সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিন্স সোহাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কল্পনা মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল হালদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি মীর হাসমত আলী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবারে সচেতনতা তৈরি, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল বারী এবং সারা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক (মার্কেটিং) শেখ মো. শাহ কামাল (শ্যামল)। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা ও মানবসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন গুণীজনকে ‘সোনার বাংলা সম্মাননা-২০২৬’ দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি তাঁদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করবে। পরে সংগঠনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

রিট খারিজ, গ্রামীণ কল্যাণকে দিতে হবে ৬৬৬ কোটি টাকা
পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের জন্য ৬০০ কোটির বেশি টাকা কর দাবি নিয়ে করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের রাজস্ব হিসেবে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে অতিরিক্ত কর দাবি করে কর বিভাগ। ওই দাবির বৈধতা নিয়ে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রায় দেন। ওই রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে বিলম্ব মার্জনা করে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গ্রামীণ কল্যাণকে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করে। পরে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ ওই আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। এরপর পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেন। তবে একই বছরের ২৯ আগস্ট ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। আদালত জানান, ওই দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে তাঁর ওই মামলায় বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে রায়টি ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠান। ওই বেঞ্চে পুনরায় শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রিট দুটি খারিজ করে দেওয়া হলো। রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর অনাদায়ি ছিল। কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রুল খারিজ করেছেন। ফলে সরকারের রাজস্ব হিসেবে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর কর বিভাগ ৩০ দিনের সময় দিয়ে দাবি আদায়ের জন্য ডিমান্ড নোটিশ জারি করবে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বিরুদ্ধে রিট দুটি করা হয়েছিল। আদালত রুল খারিজ করে রায় দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আপিল করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।

গাড়ি-মোটরসাইকেল কেনাবেচায় নতুন মার্কেটপ্লেস ‘সুপার সেল কার বাজার’
রাজধানীতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল কেনার পাশাপাশি নিজের ব্যবহৃত যানবাহন বিক্রি করতে আগ্রহীদের জন্য নতুন একটি মার্কেটপ্লেস হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। গত ৪ সেপ্টেম্বর আইসিসিবিতে প্রথমবারের মতো এই আয়োজন শুরু হয়। উদ্বোধনী আয়োজনের পর এখন থেকে প্রতি শুক্রবার সেখানে বসবে এই কার বাজার। আয়োজকেরা বলছেন, ব্যস্ত নগরজীবনে গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য সময় ও ঝামেলা কমাতেই এই উদ্যোগ। একই জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন দেখার সুযোগ থাকায় ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের যানবাহন বেছে নিতে পারবেন। ‘সুপার সেল কার বাজারে’ নতুন, পুরোনো ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির পাশাপাশি মোটরসাইকেল এবং ইউটিলিটি ভেহিকেল প্রদর্শন ও কেনাবেচার ব্যবস্থা থাকছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবহৃত যানবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ডিলারও এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। উদ্যোক্তাদের মতে, দেশে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য একটি নিয়মিত ও আধুনিক বাজারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দেখার, তথ্য জানার এবং তুলনা করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অটোমোবাইল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও থাকছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ। এর ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)। প্রতি শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে এই আয়োজন চলবে।

বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বকেয়া, জ্বালানি ঘাটতি ও নীতির টানাপোড়েন
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত দেড় দশকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মোটামুটি সচল ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতিতে নতুন কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সময়ে বিদ্যুৎ খাত সংস্কারে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত বিশেষ বিধানের পরিবর্তন এবং নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের কার্যকারিতা নিয়ে পরিবর্তন আনা হয়। একই সময়ে পাইপলাইনে থাকা বেশ কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়। দাবি করা হচ্ছে, বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল কয়েক হাজার মেগাওয়াট। পরবর্তী সময়ে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা এবং রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তার বিষয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তবে প্রকল্প বাতিল ও নতুন দরপত্রের ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি ছিল—বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানো, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং আগের ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করা। বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া বিল। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন তথ্য ও খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পাওনা বড় অঙ্কে পৌঁছেছে। বিশেষ করে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হলে জ্বালানি কেনা ও কেন্দ্র পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কয়লা ও গ্যাসের মূল্য পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও অর্থের সংস্থান না থাকলে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যায় না। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং বাড়তে পারে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এলএনজি-সংক্রান্ত একটি নন-বাইন্ডিং চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিটি নিয়ে জ্বালানি খাতে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সম্পৃক্ততা এবং প্রচলিত ক্রয়প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সমঝোতাকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটি বন্ধ বা বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু একটি সরকারের সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন জ্বালানি খাতের অনেক পর্যবেক্ষক। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অতিরিক্ত সক্ষমতা, গ্যাসের ঘাটতি, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে সংকটকে তীব্র করতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া প্রকল্প বাতিল, নতুন দরপত্র এবং বকেয়া ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তগুলো বর্তমান পরিস্থিতিকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বাতিল হওয়া কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, সময়মতো বকেয়া পরিশোধ এবং দেশীয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন।

জ্বালানি সংকটে বিপুল অর্থের ক্ষতি, বেসরকারি খাতকে স্বাগত জানানোর উদ্যোগ
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও পেট্রোবাংলাকে উচ্চ ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপরও বাড়ছে চাপ। বিপিসি-সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করায় গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধানই এ লোকসানের অন্যতম কারণ। একইভাবে এলএনজি আমদানিতেও ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে গত ছয় মাসে এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির উচ্চমূল্যের কারণে এ অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কারণ কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। তেলের পাশাপাশি গ্যাসের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের এমন অস্থিরতা সরাসরি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা ও উৎপাদন কার্যক্রমেও পড়ছে। কোথাও কোথাও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থায় বিপিসির প্রধান ভূমিকা ছিল। এখন সেই ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতকে আরও বেশি যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জ্বালানি তেলের বাজার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি বাজারে একক নির্ভরতা কমানো গেলে সরবরাহব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়লে আমদানি, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা এবং ভোক্তাস্বার্থ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে সরকারের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চাপ কমানো। এ জন্য বাজার সংস্কার, বেসরকারি অংশগ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি বাজারের এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নীতিমালার বাস্তবায়ন, বাজার তদারকি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর। তবে বর্তমান সংকট সামাল দিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগকে জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের দায় কি শুধু বর্তমান সরকারের
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াট। ফলে কাগজে-কলমে উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট বেশি। কিন্তু বাস্তবে সব কেন্দ্র থেকে একসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানি সংকট, রক্ষণাবেক্ষণ, কয়লা ও তেল সরবরাহের ঘাটতি, অর্থসংকটসহ নানা কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে অথবা সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করছে। ফলে স্থাপিত সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদনের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টির বেশি কেন্দ্র কোনো না কোনো সময় পুরোপুরি বন্ধ অথবা কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে গিয়ে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে গ্যাস সরবরাহে। দেশের বেশ কয়েকটি বড় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু সরবরাহ এর চেয়ে কয়েক শ মিলিয়ন ঘনফুট কম থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে। গত কয়েক বছরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকায় বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ বেড়েছে। একই সময়ে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময় এই নির্ভরতার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও জ্বালানি সরবরাহ বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পায়রা ও রামপালের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে বিপুল পরিমাণ কয়লা প্রয়োজন। বকেয়া বিল পরিশোধে সমস্যা তৈরি হলে কয়লা আমদানি ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে উৎপাদন কমে যায়। বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হলে জ্বালানি সংগ্রহ করে আরও কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো ক্যাপাসিটি চার্জ। কোনো বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রাখার বিপরীতে নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাকে ক্যাপাসিটি চার্জ বলা হয়। বিদ্যুৎ খাতের প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এর প্রয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে কেন্দ্র স্থাপনের সক্ষমতার জন্য অর্থ পরিশোধের ফলে রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এসব চুক্তি করা হয়েছিল। ২০০৯ সালের পর দেশে বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত মোকাবিলায় কুইক রেন্টাল ও ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন সরকারের লক্ষ্য ছিল স্বল্প সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি কমানো। এ জন্য বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়। এর আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে প্রচলিত কিছু প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়েছিল। পরে এই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবর্তে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুক্তিতে বিশেষ ব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার ফলে বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে রাষ্ট্রের ব্যয় বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের এই কাঠামো তৈরির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ বিভাগের তৎকালীন সচিব আবুল কালাম আজাদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নসরুল হামিদও দীর্ঘ সময় এ খাতের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সমালোচকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের নীতির ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হলেও জ্বালানি সরবরাহ, সঞ্চালনব্যবস্থা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য তৈরি হয়নি। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের সবগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত ভিত্তি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার, স্বজনদের ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়া এবং সম্পদ অর্জনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী এলপিজি টার্মিনাল প্রকল্প এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে মিটার স্থাপন, গ্রাহকসেবা প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা অবকাঠামোসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তি, মালিকানা কাঠামো, সরকারি অনুমোদন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন। নসরুল হামিদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে তাঁদের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিদেশে কোনো সম্পদ থাকা মানেই তা অবৈধভাবে অর্জিত বা পাচারের অর্থে কেনা—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নথি, অর্থের উৎস এবং বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ও পরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের দায়িত্ব পালন করা আহমদ কায়কাউসের সময়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় বর্তমান সংকটের ভিত্তি আগেই তৈরি হয়েছে। বর্তমান লোডশেডিংকে শুধু বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো আড়ালে থেকে যাবে। একইভাবে অতীত সরকারের সব সিদ্ধান্তকেও বর্তমান সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে—গ্যাসের ঘাটতি, কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানির সমস্যা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, সঞ্চালনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। তবে গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, সেই সক্ষমতার বড় অংশ এখন কেন কাজে লাগানো যাচ্ছে না—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নয়; ভবিষ্যতের জন্য দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি আমদানির বহুমুখীকরণ, বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার উন্নয়ন, চুক্তিতে স্বচ্ছতা এবং প্রকল্প ব্যয়ের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়লেও যদি জ্বালানি না থাকে, কেন্দ্র চালু রাখা না যায় কিংবা উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকে, তাহলে কাগজে থাকা হাজার হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা সাধারণ মানুষের ঘরে আলো জ্বালাতে পারবে না। বর্তমান লোডশেডিং তাই শুধু সাময়িক বিদ্যুৎ ঘাটতির ঘটনা নয়; এটি গত দেড় দশকের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, বিনিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, এজলাস ছাড়লেন পাঁচ বিচারক
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলাকালে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম চলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন এবং আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে তাঁর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। বার সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলার শুনানির গতি কমে গেছে। তাঁর দাবি, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতির সমন্বয়ে তিনটি বেঞ্চ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে একটি বেঞ্চ কার্যকর রয়েছে। এতে মামলার শুনানি ব্যাহত হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিচারিক কার্যক্রমের ধীরগতির প্রভাব আইনজীবীদের পেশাগত কাজেও পড়ছে বলে মন্তব্য করেন বার সভাপতি। বিশেষ করে সাধারণ ও জুনিয়র আইনজীবীরা নিয়মিত মামলা শুনানির সুযোগ না পাওয়ায় তাঁদের পেশাগত কাজ ও আয় কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও অভিযোগ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁর ভাষ্য, চেম্বার আদালত কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ বা ইনজাংশন দেওয়ার পর সেটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে এসব আদেশ বহাল থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমস্যায় পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি তথ্য গোপনের অভিযোগে একজন জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বার সভাপতি। তাঁর মতে, ওই আইনজীবীর ওপর আরোপ করা জরিমানা অত্যধিক কঠোর হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে ওই আইনজীবীকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলেও জানান। তবে আদালত সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় জরুরি কোনো মামলা বা বিষয়ে বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আইনজীবীদের ‘মেনশন’ করার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কোর্টসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগে বিচারকাজ চলার সময় এসব বিষয় নিয়ে বার সভাপতি সরাসরি কথা বলতে শুরু করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধান বিচারপতি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন অপর চার বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান বলে সূত্রটি জানায়। সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে এমন পরিস্থিতির ঘটনায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম, বেঞ্চের সংখ্যা, ‘মেনশন’ করার সুযোগ এবং জুনিয়র আইনজীবীকে জরিমানাসহ বার সভাপতির উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি কিংবা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মায়ের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল
মায়ের কথা বলতে গিয়ে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল বলেন, ‘যেখানেই থাকতাম, প্রতিদিন মায়ের কাছে হাজিরা দিতাম।’ মায়ের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর। মায়ের স্নেহের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মা তাঁকে সব সময় আদর করতেন, ভালোবাসতেন। কাছে পেলে স্নেহভরে চুমু দিতেন। সেই মমতাময়ী মানুষটি আজ আর তাঁদের মধ্যে নেই—এই বাস্তবতা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল। তিনি বলেন, তাঁর মায়ের কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে যেন তাঁকে ক্ষমা করে দেন। মায়ের স্মৃতি মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই।’ তাঁর কথায় ফুটে ওঠে মাকে হারানোর গভীর শোক এবং শূন্যতার অনুভূতি। মায়ের জীবনের কথা স্মরণ করে লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল জানান, তাঁর মা হজ ও ওমরাহ পালন করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের সব ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন—এ জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি। মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকের মধ্যে থাকা লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল মায়ের রেখে যাওয়া সব পাওনা ও দায়দায়িত্বের বিষয়েও দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। চার ভাইকে একসঙ্গে রেখে মায়ের যে ভূমিকা, সেই অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। মায়ের প্রতি সন্তানের এমন গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্মৃতিচারণে জানাজায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সবার কাছে ফরিদা বেগমের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া কামনা করেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মরহুমার দৌহিত্র, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান ও দেশ রূপান্তরের প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল, মরহুমার ছেলে ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খাঁন রতন, মরহুমার দৌহিত্র ও রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাইফ আলী খাঁন অতুলসহ পরিবারের সদস্যরা। ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে রূপায়ণ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপ ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান। জানাজা এবং দাফনেও শরিক হন অনেকেই। এ সময় মরহুমার বড় ছেলে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সান্ত্বনা দেন তারা। একইসঙ্গে ফরিদা বেগমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ফরিদা বেগমের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ও কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন। তা ছাড়া ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছে। ফরিদা বেগমের জানাজায় শরিক হয়ে সমবেদনা জানান দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, স্থপতি রফিক আজম, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অভিনেতা নাদের চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। জানাজায় রূপায়ণ গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ পাচ্ছে বেসরকারি খাত
জ্বালানি তেলের সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন করতে নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ব্যবসায় যুক্ত করার সুযোগ রেখে নতুন একটি নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব বিপিসিকে দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়নের পর তা বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি, মজুত, বণ্টন ও বাজারজাতকরণের বড় অংশই বিপিসির নিয়ন্ত্রণে। দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা হয়। বেসরকারি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশে জ্বালানি তেল পরিশোধন বা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের উৎপাদিত জ্বালানি খুচরা বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ নেই। এসব জ্বালানি বিপিসির কাছে বিক্রি করতে হয়। বর্তমান ব্যবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সীমিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বেসরকারি খাতকে নিয়ন্ত্রিত পরিসরে জ্বালানি ব্যবসায় যুক্ত করা হলে দেশের জ্বালানি মজুতের অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান টার্মিনাল, সংরক্ষণাগার, পরিবহনব্যবস্থা ও বিনিয়োগও কাজে লাগানো সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিতরণে একক নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিভিন্ন সময়ে তেল চুরি, অপচয় ও ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। বাজারে একাধিক প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতায় যুক্ত হলে এসব অনিয়ম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে দেশের এলপিজির চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাত পূরণ করছে। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিতভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে সরবরাহব্যবস্থায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম ভারতের উদাহরণ দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশগ্রহণে জ্বালানি বাজার উদারীকরণের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তবে তাঁর মতে, বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁদের মতে, বিপিসির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হাতে মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আসতে পারে। ইতোমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপসহ অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও বেসরকারি বিনিয়োগকারী এ খাতে আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্য স্থিতিশীলতা, আমদানির মান, মজুত সক্ষমতা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির পাশাপাশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা চাইলেন
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে রাজধানীর চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে। সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

রাজনীতিতে ‘ডিসেম্বর’—সরকার পতনের সময়সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাঁদের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে তাঁরাই রাষ্ট্রের বৈধ সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে আবার নির্বাচন হয় এবং ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়। তবে সরকারের নীতি, কর্মকাণ্ড কিংবা প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। বিরোধী দল ও নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা এবং দাবি আদায়ে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। প্রশ্ন তৈরি হয় তখনই, যখন নির্বাচনের বাইরে রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী পদযাত্রা এই বিতর্ককে সামনে এনেছে। দীর্ঘ সড়কজুড়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি এবং সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার মতো বিষয় রয়েছে। এসব দাবির অনেকগুলোই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে সরকারকে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দাবিগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সেই দাবিকে কেন্দ্র করে সরকার পরিবর্তনের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়েই মূল বিতর্ক। বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম কোনো দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠের শক্তির পরিচয় দিতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা দিয়ে পুরো দেশের জনমত নির্ধারণ করা যায় না। কারণ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত দেন। রাজপথের আন্দোলন এবং নির্বাচনের ভোট—দুটিই গণতান্ত্রিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কিন্তু তাদের ভূমিকা এক নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো দাবি মানতে চাপ দেওয়া যেতে পারে; অন্যদিকে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করেন কে সরকার পরিচালনা করবেন। এই দুইয়ের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের বক্তব্যের পর ‘ডিসেম্বর’ এখন রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও ছিল। অন্যদিকে এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম ছয় দফা দাবিকে এক দফায় রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে কর্মসূচিতে আলোচনা হয়েছে। আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও এসেছে জোটের নেতাদের কাছ থেকে। এ অবস্থায় ডিসেম্বরের সময়সীমা বাস্তবে কী অর্থ বহন করছে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এটি কি সরকারকে চাপ দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল, নাকি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বক্তব্যে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটির ব্যবহার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব, নাগরিক সেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কিংবা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের অসন্তোষ থাকতেই পারে। এসব বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করাও স্বাভাবিক। তবে সরকারের কোনো নীতি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ফ্যাসিবাদ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ধারণা। রাজনৈতিক বিতর্কে শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার হলে এর অর্থ ও গুরুত্ব দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে যারা কর্তৃত্ববাদ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলছেন, ক্ষমতায় গেলে তাঁরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন রাখবেন—সেটিও জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে। জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে হলে দলটিকে রাজনৈতিক আচরণ, প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহির প্রশ্নে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। অন্যদিকে জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে আসা এনসিপি শুরু থেকেই প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছে। পরিবারতন্ত্র, দখলদারিত্ব ও প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও তাদের বক্তব্যে এসেছে। এখন জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একই কর্মসূচিতে এনসিপির অংশগ্রহণের ফলে তাদের ‘নতুন রাজনীতি’র অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক জোট ও কৌশল পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও সেই পরিবর্তন তাদের ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। অতীতে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘিরে নানা বিতর্ক সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। তবে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল সিদ্ধান্ত দেশের জনগণের হাতেই থাকা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা, আন্দোলন, নির্বাচন ও ক্ষমতার পরিবর্তন—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হওয়া প্রয়োজন দেশের নাগরিকদের মতামত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ডিসেম্বরকে ঘিরে অলি আহমদের দেওয়া সময়সীমা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আনে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। কিন্তু এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার পরিবর্তনের পথটি কী হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের জয়-পরাজয় একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বিরোধী দল আন্দোলন করবে, সরকারের সমালোচনা করবে এবং জনগণের সমর্থন চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। একইভাবে জনগণ নির্বাচনের সময় ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের দল বা প্রার্থীকে বেছে নেবেন। তাই রাজপথে বড় সমাবেশ যেমন রাজনৈতিক শক্তির প্রকাশ, তেমনি ভোটের বাক্সও জনমতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ। রাজপথের আন্দোলন যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন করে, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই ‘ডিসেম্বর’ কেবল একটি সম্ভাব্য সময়সীমার নাম নয়; এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কে? জনগণ ও তাদের ভোট, নাকি রাজপথের রাজনৈতিক শক্তি? গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য এই প্রশ্নের উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে কতটা নিশ্চিত হবে জ্বালানি নিরাপত্তা
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি কৌশলগত রূপরেখা তৈরি করেছে সরকার। এতে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, এলএনজি আমদানির অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। সরকারের কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, খুলনা ও বরিশালে দুটি নতুন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল বা ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে ৪০০ মেগাওয়াটের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী ও পায়রায় দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির কথাও বলা হয়েছে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কীভাবে দূর করা হবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা কীভাবে বাড়ানো হবে এবং এসব সংস্কার কখন ও কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এ বিষয়ে ফ্রেমওয়ার্কে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তার অর্থ শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ নয়। বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষতা বাড়ানো, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে সংস্কার না করে নতুন প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দিলে ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক দায় আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। সরকারের হিসাবে, বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাদের সক্ষমতার জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার কারণে প্রতিবছর প্রায় ১৫০ থেকে ১৮০ কোটি ডলার ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ খাতের এই পরিস্থিতিতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে নির্ধারণ করা প্রয়োজন কোন বিদ্যুৎকেন্দ্র অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর, কোনগুলো কম ব্যবহার হচ্ছে এবং কোন কেন্দ্র বন্ধ, পুনর্গঠন বা আধুনিকায়ন করা দরকার। পুরোনো অতিরিক্ত সক্ষমতার সমস্যার সমাধান না করে নতুন সক্ষমতা যুক্ত হলে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা আরও বাড়তে পারে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দক্ষতার ঘাটতি দূর করতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সংস্কার জরুরি। তাঁর মতে, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতির পাশাপাশি একই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজও শুরু করা প্রয়োজন। এদিকে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এলএনজি আমদানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নতুন দুটি এফএসআরইউ নির্মাণ হলে আমদানির সক্ষমতা আরও বাড়বে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলে দেশের জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, দেশে এলএনজি আমদানি শুরুর পর ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় হয়েছে আরও প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। জ্বালানি আমদানিতে দেশের বার্ষিক ব্যয় ইতিমধ্যে ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এলএনজি আমদানির পরিমাণ আরও বাড়লে এই ব্যয় ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদেরা। তাঁদের মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ভোলার গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভোলায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত আবিষ্কৃত হয়েছে। এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রায় ৬০০ কোটি টাকার অর্থায়ন জোগাড় না হওয়ায় প্রকল্পটি এগোয়নি। অন্যদিকে ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে সেখানে নতুন ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রে তা ব্যবহার করা সম্ভব। এতে বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি স্থানীয় গ্যাসের ব্যবহারও বাড়ানো যেত। বিপিডিবির আর্থিক দুর্বলতাও বিদ্যুৎ খাতের বড় সমস্যা। দেশের বিদ্যুৎ খাতের একক ক্রেতা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। উৎপাদন ও ক্রয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের দায়িত্বও এর ওপর রয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বিপিডিবির নিজস্ব অনেক কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অথচ এসব কেন্দ্র ও বিপুলসংখ্যক কর্মীর ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমদ ফারুক চিশতী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতার অন্যতম কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি যথাযথভাবে পরিকল্পনায় না নেওয়া। তাঁর মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বিদ্যমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা। নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়ার অর্থায়নে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো উৎপাদনে আসেনি। কেন্দ্রটির উৎপাদন শুরুর সময় একাধিকবার পিছিয়েছে। এর মধ্যে নতুন আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ইতিবাচক হলেও এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তাঁর মতে, বিপিডিবি, পিজিসিবি, বিইআরসি, পেট্রোবাংলা ও বিপিসির মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা উন্নয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বড় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। নেট মিটারিংসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি ও এলএনজিনির্ভর নতুন অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ করলে জ্বালানি খাতে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি নাও হতে পারে। উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোটের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার সমাধান হিসেবে নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে একমাত্র পথ হিসেবে দেখা টেকসই নয়। তাঁর মতে, বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, কাঠামোগত সংস্কার এবং ব্যয় সাশ্রয়ী পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক মূলত আগামী পাঁচ বছরের অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি রূপরেখা। তাই এতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংস্কারের বিস্তারিত পরিকল্পনা রাখা হয়নি। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এসব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বলেন, ফ্রেমওয়ার্কে মূলত কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো পৃথক অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করবে। বাস্তবায়নের সময় কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা সম্ভব হবে। সরকারের এই রোডম্যাপে তাই একদিকে যেমন নতুন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো তৈরির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে বিদ্যমান ব্যবস্থার অতিরিক্ত সক্ষমতা ও আর্থিক চাপও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে তার ওপর।

সন্ত্রাসবাদ আর পানি—ভারত কেন দুটিকে একসঙ্গে দেখছে
একটি চুক্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে? আর দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন ঘটলে সেই চুক্তির সুবিধা কি আগের মতো বহাল রাখা সম্ভব? ভারত-পাকিস্তানের ৬৬ বছরের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে এখন এই প্রশ্নগুলোই সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এ হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এর পরই নয়াদিল্লি ঘোষণা দেয়, পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত থাকবে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধু পানি বণ্টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্কের অবনতিকে তারা অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা থেকে পুরোপুরি আলাদা করে দেখতে চাইছে না। সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে বিরোধ এবার আন্তর্জাতিক আইনি পরিসরেও গড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পাকিস্তানের আবেদনের পর চুক্তির আওতায় গঠিত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত রায় দেয়, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর। ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তে চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করা যায় না বলেও আদালত মত দেয়। একই সঙ্গে ভারতের রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে কিছু অন্তর্বর্তী বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পাকিস্তান এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, তারা ওই সালিসি প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিয়ে রায় দেওয়ার এখতিয়ারও ওই ট্রাইব্যুনালের নেই বলে মনে করে দেশটি। এ কারণে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে বিরোধ এখন কেবল পানি বণ্টন বা প্রকল্প নির্মাণের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারে পাকিস্তানের প্রধান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ব্যবহারে ভারত অধিকতর অধিকার পায়। একই সঙ্গে উভয় দেশকে নির্দিষ্ট শর্তে একে অপরের নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ, সামরিক উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিরোধ চললেও এই চুক্তি দীর্ঘ সময় কার্যকর ছিল। সে কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে এটিকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সফল পানি সহযোগিতার অন্যতম উদাহরণ হিসেবেও দেখা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের মতো নেই। দুই দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, পানির চাহিদা বেড়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভারতের অবস্থানকে সরলভাবে দেখলে মনে হতে পারে, একটি সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় একটি পানি চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লির যুক্তি এর চেয়ে বিস্তৃত। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। মুম্বাই, উরি, পুলওয়ামা ও সর্বশেষ পাহেলগাম হামলার মতো ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে বারবার সংকটের মধ্যে ফেলেছে। পাকিস্তান অবশ্য ভারতের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ভারতের দৃষ্টিতে, পাহেলগাম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকটের ধারাবাহিকতার অংশ। ফলে এমন পরিস্থিতিতে পানি, বাণিজ্য বা অন্যান্য সহযোগিতাকে নিরাপত্তা সম্পর্ক থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখার পুরোনো নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে নয়াদিল্লি। এখানে অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সন্ত্রাসী হামলা ঘটলেই কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়—এমন কোনো সরল আইনি নিয়ম নেই। ভারতও চুক্তিকে চিরতরে বাতিল করার কথা না বলে স্থগিত রাখার কথা বলছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে সহযোগিতার পথ আবার খোলার সুযোগ তারা রাখছে। আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতি হলো—চুক্তি স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রকে তা পালন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতার জন্য এই নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক আইন সব পরিস্থিতিকে এক রকমভাবে দেখে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে চুক্তি স্থগিত, পরিবর্তন বা বাতিলের কিছু আইনি ভিত্তিও রয়েছে। গুরুতর চুক্তিভঙ্গ কিংবা পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তনের মতো বিষয় আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব রাজনীতিতেও দেখা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা বা পরিবর্তিত কৌশলগত বাস্তবতার কারণে রাষ্ট্রগুলো পুরোনো চুক্তি থেকে সরে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০০১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে করা অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে ২০১৯ সালে রাশিয়ার সঙ্গে করা আইএনএফ চুক্তি থেকেও সরে আসে ওয়াশিংটন। এসব সিদ্ধান্তের আইনি ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে এগুলো দেখায়, রাষ্ট্রগুলো সব সময় চুক্তিকে পরিবর্তিত বাস্তবতার ঊর্ধ্বে রাখে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটলে পুরোনো প্রতিশ্রুতি নতুন করে মূল্যায়নের প্রবণতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রয়েছে। সিন্ধু নদ অববাহিকা পাকিস্তানের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং অর্থনীতির বড় অংশ এই নদীব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে সিন্ধু পানি চুক্তি শুধু দুই দেশের মধ্যে একটি সাধারণ পানি বণ্টন চুক্তি নয়। পাকিস্তানের কাছে এটি দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভারত চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তানের উদ্বেগ তাই স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। অন্যদিকে ভারত বলছে, চুক্তির সুবিধা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আর আলাদা করে দেখার মতো অবস্থায় দুই দেশের সম্পর্ক নেই। দ্য হেগের সালিসি আদালতের রায় আইনি বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। আদালত চুক্তিকে কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের আইনি প্রভাব নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে। কিন্তু এই রায় দুই দেশের রাজনৈতিক অবিশ্বাস দূর করতে পারবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান সংকট শুধু একটি চুক্তির ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত নিরাপত্তা, কাশ্মীর এবং পারস্পরিক আস্থার গভীর সংকট। ভারতের অবস্থান হলো, পানি সহযোগিতা আবার স্বাভাবিক করতে হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও উন্নতি প্রয়োজন। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য সিন্ধু পানি চুক্তির ধারাবাহিকতা পানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত শুধু আদালতের রায়ে নির্ধারিত হবে না। এর সঙ্গে দুই দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ভারত যদি মনে করে পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, তাহলে চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইভাবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৬৬ বছর ধরে টিকে থাকা সিন্ধু পানি চুক্তি তাই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে। চুক্তিটি একসময় যুদ্ধ ও বৈরিতার মধ্যেও দুই দেশকে পানি সহযোগিতার একটি কাঠামোর মধ্যে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই সহযোগিতা টিকিয়ে রাখতে শুধু আইনি কাঠামো যথেষ্ট কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। পানি বণ্টনের নিয়ম হয়তো চুক্তিতে নির্ধারিত। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকর রাখার জন্য যে রাজনৈতিক আস্থা প্রয়োজন, সেটি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিন্ধু পানি চুক্তির ভবিষ্যৎ তাই শেষ পর্যন্ত শুধু পানির প্রশ্ন নয়। এটি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা নীতি এবং পারস্পরিক আস্থারও একটি পরীক্ষা।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান, অন্য উপদেষ্টাদের নিয়েও প্রশ্ন
একটি সরকারের পতন বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন একের পর এক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে আসে, তখন প্রশ্ন ওঠে—এসবের কতটা সত্য? সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানান। এই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে শুধু একজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তই শুরু হলো না; একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে। দুদকের কাছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের একটি অংশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এই অর্থ যদি সত্যিই লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে অর্থের উৎস ও গন্তব্য কোথায়? কার মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির নথিতে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল কি না? দুদকের অনুসন্ধানেই এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। দুদক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন, ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং বিদেশে সম্পদ রাখার মতো বিষয়। তবে অভিযোগ জমা পড়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ উপদেষ্টাকে দিতে হতো—এমন অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কথিত প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলম এই কমিশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করতেন। অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, বরাদ্দ, ঠিকাদার নির্বাচন, বিল পরিশোধ এবং অর্থ ছাড়ের নথি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামের নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই নিয়োগের জন্য মোট ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা দুবাইয়ের আল-আনসারি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাঠানো এবং ২ কোটি টাকা নগদ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এমন কোনো অর্থ লেনদেনের আর্থিক প্রমাণ আছে কি না। ব্যাংক হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক বিবরণী এবং যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগটির সত্যতা বা অসত্যতা নির্ণয় করা সম্ভব। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০ কোটি টাকা নগদ এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত ১০ শতাংশ কমিশনের শর্তে নিয়োগটি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এজাজের বিরুদ্ধে পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, সম্পত্তি ও দোকান বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তদন্তের ক্ষেত্রে তাই শুধু নিয়োগের সময়কার সিদ্ধান্ত নয়, পরবর্তী সময়ে প্রশাসক হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব টেন্ডারে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে এবং কথিত প্রেস সেক্রেটারি বিভিন্ন টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এখানে তদন্তের জন্য একটি বড় প্রশ্ন—কোন কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যাদেশ পেয়েছে? প্রতিটি টেন্ডারের দরপত্র, মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বিশ্লেষণ করলে কোনো সিন্ডিকেট বা যোগসাজশের অস্তিত্ব থাকলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়েও আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সারাদেশে জেলা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি ৪৮টি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩৬ জনকে পরবর্তীতে ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জেলা অনুযায়ী ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে—কোন কর্মকর্তার পক্ষে কখন ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, সেই কর্মকর্তা কীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক অবস্থানে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে কি না—তা পর্যালোচনা করা। আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশের পর তার সম্পদ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ক্রিপ্টোকারেন্সি, দুবাইয়ে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডে ব্যাংক হিসাব থাকার দাবিও সামনে আসে। এসব দাবির সত্যতা এখনো আলাদা করে প্রমাণিত নয়। তবে যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে তার সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাহলে দেশীয় ও বিদেশি সম্পদের উৎস যাচাই করা দুর্নীতি অনুসন্ধানের স্বাভাবিক অংশ। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এ প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশিদের মোট জমা অর্থকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হবে ব্যক্তি-নির্দিষ্ট আর্থিক তথ্য। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত যদি সত্যিই বিস্তৃত হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মকাণ্ডও এর বাইরে থাকার কথা নয়—এমন দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদেশি বিনিয়োগ, সরকারি অনুমোদন এবং বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ফ্রান্সের গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকল ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণ আমেরিকায় প্রায় ১২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ বাড়ার কথাও বলা হয়েছে। এখন তদন্তের প্রশ্ন—এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি? সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্রে অর্থের উৎস কী দেখানো হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্রের মাধ্যমেই বের করা সম্ভব। ইউনূস সরকারের সময়ে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানি লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমোদন—এসব বিষয় আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর সুবিধা এবং ব্যাংকে সরকারের শেয়ারের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের প্রধান ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থসংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত। আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি ছিল সাব-রেজিস্ট্রার বদলি। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভালো কর্মস্থলে বদলির জন্য ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবিও রয়েছে। এখানে প্রশ্ন হলো—এত বিপুল সংখ্যক বদলির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং বদলির আগে-পরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো মধ্যস্থতাকারীর যোগাযোগ ছিল কি না। ২০২৫ সালের ২ জুন দেশের বিভিন্ন আদালতের ২৫২ বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের একটি চক্র কাজ করেছে এবং এর সঙ্গে আসিফ নজরুলের সম্পৃক্ততা ছিল। অভিযোগে কয়েক শ কোটি টাকা লেনদেনের দাবিও করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ফলে বিচারকদের বদলির সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন আসামির জামিন নিশ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে। তবে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে নির্দিষ্ট মামলার তথ্য সামনে আনতে হবে। কোন মামলায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, কে আইনজীবী ছিলেন, কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে এবং কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন ঘটেছে কি না—এসবই তদন্তের বিষয় হতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স অনুমোদন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে ২৫২টি নতুন প্রতিষ্ঠানকে রিক্রুটিং লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে—প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেছিল? লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে কি না? কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না? লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীকেও ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়, আবু বকর সিদ্দিকীর সঙ্গে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পেশাগত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক লেনদেনে মধ্যস্থতার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া উপদেষ্টা হওয়ার পর রিজওয়ানা হাসান ও তার পরিবারের সম্পদ বেড়েছে—এমন দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হবে সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল। শুধু আসিফ মাহমুদ, আসিফ নজরুল কিংবা রিজওয়ানা হাসান নন—ইউনূস সরকারের আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নুরজাহান বেগম ও আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দুদকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি রয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে একই নীতি প্রযোজ্য—অভিযোগ থাকলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না। আবার অভিযোগ থাকার কারণে তদন্ত না করাও জবাবদিহির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়া তাই একটি বড় প্রশ্নের দরজা খুলে দিয়েছে—অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়ের দুর্নীতির অভিযোগগুলো কি একইভাবে যাচাই করা হবে? সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে উপদেষ্টা, আমলা কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি—কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তের ভিত্তি হতে হবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তথ্য ও প্রমাণ। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগের পেছনে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে তাকেও দায়মুক্তি দিতে হবে। জনগণের স্বার্থে তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও স্বাধীন তদন্ত—যেখানে নিয়োগ-বদলি, পদায়ন, টেন্ডার, উন্নয়ন প্রকল্প, বিদেশি সম্পদ, অর্থপাচার এবং সরকারি সুবিধা প্রদানের প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছিল কি না। আর সেই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, বেরিয়ে আসতে হবে তদন্তের নথি ও প্রমাণ থেকে।

ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক করতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একাধিক উদ্যোগ
দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতার পর গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. আবেদুর রহমান সিকদার জানিয়েছেন, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন ব্যাংকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, একজন গ্রাহক প্রয়োজনের সময় ব্যবহারের জন্য তাঁর কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে রাখেন। সেই অর্থ প্রয়োজনের সময় দিতে না পারা ব্যাংকারদের জন্যও কষ্টের। এ কারণে গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যক্তি পর্যায়ের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। এমনকি কোনো গ্রাহক চাইলে তাঁর হিসাবের পুরো স্থিতিও তুলে নিতে পারবেন। পাশাপাশি মাসিক মুনাফাভিত্তিক হিসাবের গ্রাহকদের নিয়মিত মুনাফা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেয়াদি আমানত, ডিপিএস ও মাসিক স্কিমের গ্রাহকেরা ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যেতে না চাইলে মূল আমানত ফেরত নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির এমডি। স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ পাওয়ার পর অনেক গ্রাহক তাঁদের পুরো অর্থ তুলে নেবেন—এমন ধারণা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ছিল। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হয়েছে বলে জানান আবেদুর রহমান সিকদার। তাঁর মতে, অনেক গ্রাহক অর্থ ব্যাংকে রেখেই লেনদেন চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকলে ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। ব্যাংকটির জন্য এটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যেসব গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের আস্থা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন ব্যাংকটির এমডি। তিনি বলেন, আগে কোনো গ্রাহক শাখায় এলে তাঁকে কীভাবে সেবা দেওয়া হবে, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যেও এক ধরনের উৎকণ্ঠা ছিল। এখন লেনদেনের সুযোগ বাড়ায় কর্মীদের মধ্যে কাজের আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। ব্যাংকটির প্রবাসী গ্রাহকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আবেদুর রহমান সিকদার। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কয়েকজন গ্রাহক ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাঁদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। অনেক প্রবাসী গ্রাহক তাঁদের অর্থ তুলে নিতে চান না, বরং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কমে আসায় তাঁদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আবেদুর রহমান সিকদারের ভাষ্য, ব্যাংকে অর্থ রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করা। জরুরি প্রয়োজনে যথাযথ বিবেচনার ভিত্তিতে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ব্যক্তি পর্যায়ের সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে বর্তমানে জমা ও উত্তোলনে আগের মতো বাধা নেই। পাশাপাশি নতুন হিসাব খোলার সুযোগও রয়েছে। কোনো গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করতে চাইলে তাঁর মূল আমানত ফেরত নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাংকটির এমডির আশা, এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংকের কার্যক্রম আরও স্বাভাবিক হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা শক্তিশালী হবে। ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেন স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে খুচরা ব্যাংকিং, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং করপোরেট খাত। সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ব্যবসায়িক গ্রাহক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন বাড়িয়েছেন। এখন তাঁদের আবার ব্যাংকটির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, প্রথম পর্যায়ে পুরোনো ও বিশ্বস্ত গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগে যেসব গ্রাহক ব্যাংকটির সঙ্গে বড় পরিসরে ব্যবসা করতেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার পর নতুন গ্রাহক আকর্ষণের দিকে নজর দেওয়া হবে। ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে বড় মূলধনভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গ্রাহকদের সমন্বিত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রাজধানীর গুলশানে একটি মডেল শাখা চালুর পরিকল্পনা করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির এমডি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শাখাটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই শাখা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব পরিচয়ে পরিচালিত হবে। আগের পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরাও এখান থেকে সেবা নিতে পারবেন। আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, একই শাখা থেকে আগের পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার ধারণা থেকেই মডেল শাখা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কাছাকাছি স্থানে আগের ব্যাংকগুলোর একাধিক শাখা রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও কার্যক্রম বিবেচনায় এসব শাখাকে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুলশানের মডেল শাখাকে সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের শাখার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ব্যাংকটির। বিদ্যমান শাখা, উপশাখা, এটিএম নেটওয়ার্ক ও কর্মীদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদুর রহমান সিকদার। তিনি বলেন, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাংকের ভেতরে সুশৃঙ্খল ও পেশাদার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকের কর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আবেদুর রহমান সিকদারের মতে, আর্থিক খাতে আস্থা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলে তার ইতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ে। ব্যাংকের শাখা ও সেবা বিস্তারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা চালুর মাধ্যমে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যার সঙ্গে লেনদেন করে গ্রাহকেরা এবং কাজ করে কর্মীরা সন্তুষ্ট ও গর্বিত বোধ করবেন। দীর্ঘদিনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ব্যাংকের সঙ্গে থাকা গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আস্থাকে ভিত্তি করেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান তাঁরা।

বিশেষ শিশুদের নিয়ে কাজের স্বীকৃতি পেলেন ইয়াশা সোবহান
বিশেষ শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন ও অটিজম বিষয়ে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেয়েছেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক ও বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, যত্ন, থেরাপি ও সামগ্রিক বিকাশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইয়াশা সোবহানকে ‘মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকার একটি স্বনামধন্য হোটেলে সার্ক কালচারাল ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন টু অটিজম’ বিভাগে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ইয়াশা সোবহান বিশেষ শিশুদের শিক্ষা ও যত্নের পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী বিকাশের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছেন। অটিজম ও অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ৬০০-এর বেশি বিশেষ শিশুর শিক্ষা ও বিকাশ নিয়ে কাজ করছে। শিশুদের প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনায় শিক্ষা, থেরাপি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ফাউন্ডেশনটি। ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন ইয়াশা সোবহান। বিশেষ শিশুদের নিয়ে কাজের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণেও তাঁর বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ রয়েছে। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি থ্যালাসেমিয়া নিরাময় সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি ও পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিনা সুদে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগও রয়েছে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে। সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের নেতৃত্বের দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগেও ইয়াশা সোবহান যুক্ত রয়েছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছেন তিনি। অটিজম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এবারের পুরস্কার তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি। একই সঙ্গে বিশেষ শিশুদের শিক্ষা, থেরাপি, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমও এ সম্মাননার মাধ্যমে সামনে এসেছে।

ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ETC (Electronic Toll Collection) সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মাধ্যমে টোল আদায় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।