বিভাগ: লাইফস্টাইল
মোট খবর: 2 টি
গাড়ি কিনবেন বা বিক্রি করবেন? যেতে পারেন আইসিসিবির ‘সুপারসেলে’
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সুপারসেল কারবাজার’। উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই বাজারে এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি কেনাবেচার সুযোগ পাবেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান অতিথি হিসেবে কারবাজারটির উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) মহাসচিব রিয়াজ রহমান, উইজার্ড শোবিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান রাসেল এবং আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দীন। এ ছাড়া দেশের অটোমোবাইল খাতের ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গাড়ি ও বাইকিং কমিউনিটির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত যানবাহন এক জায়গায় দেখার ও যাচাই করার সুযোগের পাশাপাশি সহজ ফাইন্যান্সিং সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে ‘সুপারসেল কারবাজার’ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠবে। আয়োজকদের ভাষ্য, আধুনিক ও নিরাপদ পরিবেশে গাড়ি কেনাবেচার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে গাড়ির মালিক ও সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হলে দেশের অটোমোবাইল বাজার আরও গতিশীল হবে। কারবাজারটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গাড়ি কেনার পাশাপাশি ক্রেতারা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন। অটো লোন, গাড়ি ফাইন্যান্সিংসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারবেন। এতে গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। প্রতি শুক্রবার আইসিসিবি প্রাঙ্গণে বসবে ‘সুপারসেল কারবাজার’। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে কার্যক্রম। সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের গাড়ি দেখার পাশাপাশি পছন্দের গাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে ক্রেতাদের জন্য। অন্যদিকে গাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী মালিকেরা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সামনে তাঁদের গাড়ি উপস্থাপন করতে পারবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে ‘সুপারসেল কারবাজার’ রাজধানীর গাড়িপ্রেমী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় অটোমোবাইল মার্কেটপ্লেস হয়ে উঠবে।

স্বাবলম্বী হচ্ছেন সুন্দরবনের হাজারো নারী
সুন্দরবনের প্রান্তিক জনপদে একসময় যেখানে জীবিকার সীমাবদ্ধতা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা, সেখানে আজ আশার নতুন আলো জ্বালাচ্ছে নারীদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ‘প্রেরণা’। সংস্থাটির উদ্যোগে নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই জীবিকা এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে এক সুতোয় গেঁথে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলের অনেক পরিবার দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কর্মসংস্থানের সংকটে জীবনযাপন করেছে। এসব চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারীদের ওপর। তবে ‘প্রেরণা’র সহায়তায় অনেক নারী এখন বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কেউ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কেউ হস্তশিল্পী, আবার কেউ পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের আয়ের নতুন পথ তৈরি করেছেন। একসময় সুন্দরবনের কোলঘেঁষা লোকালয়ে নারীদের জীবন ছিল বাল্যবিবাহ, নিরাপদ পানির অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ঘেরা। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা আর সামাজিক বৈষম্য ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। সেই বাস্তবতা বদলে দিতে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন প্রেরণা নারী উন্নয়ন সংস্থা। প্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পা গোস্বামী বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য কাজ করা নারীদের অনেক সময় শুধু কাজ দিয়েই নয়, ব্যক্তিগত মর্যাদাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সত্য, সততা এবং মানুষের আস্থা কোনো অপপ্রচারের চেয়ে অনেক বড়। প্রেরণার পথচলা হাজারো নারীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের গল্প। যত বাধাই আসুক, সুন্দরবনের মানুষ এবং নারীর অধিকারের জন্য আমাদের এই পথচলা থামবে না।’ তিনি বলেন, ‘যারা পরিবর্তনের জন্য কাজ করেন, তাদের পথ কখনো সহজ হয় না। একজন নারী নেতৃত্বে থাকলে অনেক সময় তার মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তাকে পিছনে টেনে রাখার চেষ্টা হয়। তবু আমি বিশ্বাস করি—সত্য, সততা মানুষের বাধার চেয়ে অনেক বড় শক্তি। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা মানুষের জন্য কাজ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।’